দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের রেল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাবের ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা রবনীত সিং বিট্টু। এর আগে গত জুন মাসেই রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হয়েছিল।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বিট্টু। সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির কাছ থেকে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দলীয় প্রস্তুতিতে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রবনীত সিং বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের জনগণ, বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের মানুষের সেবা করতে পেরে আমি গর্বিত। সেবার আদর্শ, জাতীয়তাবাদ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে উন্নত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার পথচলা অব্যাহত থাকবে।’
পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ান্ত সিংয়ের নাতি রবনীত সিং বিট্টু ২০২৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। একই বছর তিনি লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। পরে কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপালের শূন্য হওয়া আসনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য রাজস্থান থেকে তাকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়।
সম্প্রতি অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত ‘সতলুজ’ চলচ্চিত্রের সমালোচনা করে বিট্টু বলেন, এটি এমন এক সময়ে ‘আগুন জ্বালানোর চেষ্টা’, যখন শিখ সম্প্রদায়ের সংবেদনশীল এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শিখ নেতারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছিলেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, পাঞ্জাবে ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনৈতিক কৌশলে তিনি চারটি প্রধান ভোটার গোষ্ঠী—হিন্দু, শিখ, দলিত এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিকে—বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
পাঞ্জাবে ভোটারদের মধ্যে শিখ সম্প্রদায়ের অংশ সবচেয়ে বেশি, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৮ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়, যাদের সংখ্যা প্রায় ৩৯ শতাংশ। রাজ্যটিতে এক কোটিরও বেশি মানুষ হিন্দুধর্ম অনুসরণ করেন, যা এটিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায়ে পরিণত করেছে।
এ ছাড়া পাঞ্জাবে দলিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩২ শতাংশ এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জনগোষ্ঠীর হার প্রায় ১৬ শতাংশ।
/অ